নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘অসহযোগে ভয়ের কোন কারণ নাই’ জানালেন উষাতন

‘অসহযোগে ভয়ের কোন কারণ নাই’ জানালেন উষাতন

usatan-talukder-09১৫ জানুয়ারি রাঙামাটিতে স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীর সাথে রাঙামাটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার। সেই কথোপকথনে বিভিন্ন প্রসঙ্গে উষাতন তালুকদারের দেয়া উত্তর হুবহু পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে..
রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এখানকার মানুষের প্রতি আমার আহ্বান হলো, ১০ ও ১১ তারিখের ঘটনাতে আমরা দুঃখ পেলাম, লজ্জা পেলাম ও ক্ষতিগ্রস্থ হলাম, এতে আমাদের লাভটা কি হলো ? এই বিষয়টি আমাদের জনসাধারনকে বুঝতে হবে। এই ধরনের অনেক ঘটনা আমাদের সামনে চলে গেছে। এতে সাধারন মানুষ কষ্ট পায়, ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এতে কাদের লাভ হয়? এতে কারো লাভ হয় না। কোন ঘটনা ঘটলে কোন প্রকার গুজবে কান না দিয়ে, কোনো ঘটনা কানে আসলে তা যেনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে প্রশাসনকে জানাই। আমরা অহেতুক উত্তেজিত যেনো না হই। উত্তেজিত না হয়ে নিজ নিজ ঘরে থেকে প্রশাসনকে জানিয়ে সুরাহা করতে পারি। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার চেয়ে রটনা ছিল অনেক বেশী। এই বিষয়টি আমি জনগনের কাছে আহ্বান রাখবো, আসুন আমরা একে অপরের প্রতি আস্থা রাখি এবং এলাকাভিত্তিক আমরা কমিটি করি, সকলে দলমত নির্বিশেষে। যখন যে এলাকায় সমস্যা হবে, তখন তারাই এই সমস্যার সমাধান করবে। রাঙামাটি বাসীর প্রতি আমার আহ্বান হলো, আপনারা ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছেন ,এই এলাকার সকলকে কাছে অনুরোধ করবো, আপনারা আমার প্রতি আস্থা রাখুন এবং আমাকে সহযোগিতা করুন। আমি যখন থেকে নির্বাচিত হয়েছি, তখন থেকেই আমি সকলের জনপ্রতিনিধি, কোন দলের নাম। আমি এই এলাকার প্রতিনিধি, এই এলাকার ভাল মন্দ সকল কিছুর দায়ভার আমার। আমি আশা করবো এই এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে যাতে আসতে পারি এই জন্য আমি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি। দলতম নির্বেশেষে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ সকলের কাছে। আসুন আমাদের সুন্দর শহরকে, রাঙামাটিকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখি এবং আমি সকলকে বলতে চাই আপনারা আমার প্রতি আস্থা বিশ্বাস রাখুন। আমি রাঙামাটি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এই ১০ ও ১১ তারিখ এই পরিস্থিতিতে ওনারা যে দায়িত্ব পালন করেছে তা অবশ্যই প্রসংশনীয়, সাথে সাথে সেনাবাহিনী ও বিজিবিকেও ধন্যবাদ জানাই তাদের ভূমিকার জন্য।

পারস্পরিক আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস সম্পর্কে…
** আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে, যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। আমাদের দেখতে হবে এরা কারা, যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তাদের প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টি রাখা দরকার। সমাজের প্রতি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার, যাতে করে কারো উস্কানিতে, বা কারো দ্বারা আমরা ব্যবহৃত না হই, এই বিষয়টি দেখতে হবে। আর আমি নানিয়ারচর বগাছড়িতে যাইনি, কিন্তু বুঝতে পারছি সেখানে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে বলেই আমার মনে হয়। অনেকে আমাকে অপছন্দ করেত পারে, তার পরও বলি। মূল বিষয়টি কোথায় ? মূল বিষয়টি হলো রাজনৈতিক সমস্যা নির্ধারন করেই সরকার এখানে চুক্তি করেছে। তাহলে আসুন না আমরা আগে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করি, তাহলে দেখবেন যে এখানে মূল কর্তৃপক্ষ কে? তাহলে কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদ? নাকি আঞ্চলিক পরিষদ? নাকি জেলা প্রশাসন? এখানে কার কি দায়িত্ব? কার কি ক্ষমতা? এটা আগে ঠিক হওয়া উচিত। এখানে আজ জেল প্রশাসনকে মূল ভূমিকায় আসতে হচ্ছে। তাহলে জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদের দায়িত্ব ও কাজ কি? এইসব পরিষদ অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এখানে সরকারের প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয় তাহলে এটা অহেতুক? ‘ঢাল নাই তলোয়ার নাই, নিধিরাম সর্দার”। চুক্তি বাস্তবায়নে আমাদের আরো অধিকতর মনযোগি হওয়া দরকার। যারা চুক্তির বিপক্ষে তাদের সাথেও আলাপ আলোচনা করা দরকার। আমি অনেককেই দেখেছি চুক্তির পুরোপুরি না পরেই অযথা কথা বলে। কারো কাছে শুনেই তিনি লাফাচ্ছেন। এখানকার জনগোষ্ঠিকে বঞ্চিত রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই সরকার আমাদেরও সরকার। সরকার কখনো আমাদের ক্ষতি চাইবে না। চুক্তিতে কোন নাগরিককে দু নম্বর নাগরিক আবার অন্য নাগরিককে এক নাম্বার নাগরিক করা হয়নি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি এখানকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠিকে আমাদের মহান সংবিধানে ২৩ নং ধারায় অনুযায়ী লেখা আছে অনগ্রসর জনগনকে সুযোগ করে দেওয়ার বিধান হয়েছে, সেই বিধান অনুযায়ী এভাবে একটা আইন হয়েছে, চুক্তি হয়েছে। আমাদের কারো আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নাই।

চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কে…
সরকারিভাবে, দলীয়ভাবে বলা হচ্ছে, আমরা চুক্তির পক্ষে, চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয়, শষ্যের ভিতর ভূত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা আছে, ওনার মন্ত্রী পরিষদের অনেকের মধ্যে আন্তরিকতা আছে, আবার কারো কারো মধ্যে এই বিষয় বিরোধিতাও আছে মনে হচ্ছে, তা হলে সেভাবে বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছেনা কেন ?

অসহযোগের কথা আমরা বলেছি। সেটা কখন আসছে, ১৭ বছর পর এই বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। এখানকার জনগন কি দুঃখ কষ্টের মধ্যে আছে। চট্টগ্রামে বন্দর এলাকায় পার্বত্য এলাকার মানুষ শুধু কি পেটের দায়ে গেছে? না আরো অন্যান্য কারণ আছে, এটা আমাদের বুঝতে হবে। আজ অল্প বয়সের অনেকে ওখানে ভিড় করছে, কেন গেছে তারা, আজ পাহাড়ে নিরাপদ নয় সে জন্য ওরা ওখানে গেছে। নিরাপদ জীবনের আশায় আজ ওখানে ওরা। আমরা কখনো বলিনি রাতারাতি চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। একটা সময়সূচী নির্ধারন হউক, সরকারের পরবর্তী চার বছরের মধ্যে কোন বিষয়টি কখন ব্যবস্থা নিবেন। এই বিষয়ে একটি রোডম্যাপ করা। আমরা তো জনগনের চাপে আছি। আমাদের কর্মীদের চাপে আছি। অনেকেই মনে করছে আমার সরকারের সাথে মিলে সব কাজ করছি।

‘অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে মানুষ ভয়ে আছে’…
**ভয়ে থাকার কোন কারন নাই। এটা সরকারের সাথে আমাদের দেনদরবার। জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদকে আরো ক্ষমতা দেওয়া উচিত।
আপনারা আরো জানেন কিছুদিন আগে আমাদের নেতা সন্তু লারমার সাথে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সাথে ভূমি বিরোধ নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। আমরা আন্তরিক,সেহেতু যোগাযোগ বরাবরই আছে।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে…
সিদ্ধান্ত হয়েছে বা শুরু হয়েছে সেটা একটি বিষয়। কোন বিষয় শুরু করার আগে আমাদের অবশ্যই ভাল মন্দ বা বিভিন্ন মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে যে কোন সিন্ধান্ত নেওয়া উচিত। সরকার এই বিষয় বিবেচনা করে রাঙামাটির মেডিকেল কলেজটি স্থগিত রাখতে পারেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই এলাকার মানুষ বাধা দিচ্ছে এটা আমি মনে করছি না। এখানকার মানুষ মেডিকেল কলেজ চাইবে না কেন? মেডিকেল কলেজ চায়। এখনই করতে হবে, এটা তো না। পার্বত্য অঞ্চলে চুক্তির পর এখানকার মানুষ ভাল নেই, নিরাপদে নেই। এখন সেখানে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রয়োজনীয়তা নেই। এখানকার প্রাইমারী স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজগুলো যে বেহাল অবস্থা, যে সমস্ত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র হয়েছে সেগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। এখানে যে মেডিকেল কলেজ হয়েছে এখানে পড়ার মতো আমাদের এতো ছেলেমেয়ে নেই। আমি এখানকর জনপ্রতিনিধি কই, সরকার তো আমার সাথে আলাপ আলোচনা করেনি? এখানে মেডিকেল কলেজ করলে কেমন হবে? আমার সাথে তো সেরকম কোন আলাপ আলোচনা করে হয়নি। এই মেডিকেল কলেজ নিয়ে যখন পক্ষে-বিপক্ষে মত দাঁড়িয়েছে তখন সরকারের উচিত ছিল আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমিও তো এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন চাই। কেন চাইবো না আমি? সমস্যা যখন হয়েছে তখন সকলের মতের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আপাতত এসব স্থগিত রাখাটাই উত্তম।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply