নীড় পাতা » ব্রেকিং » অর্ধ-শতাব্দিতেও স্থাপন হয়নি রিভার স্টেশন

অর্ধ-শতাব্দিতেও স্থাপন হয়নি রিভার স্টেশন

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির অর্ধ-শতাব্দির পরও রাঙামাটিতে এখনো রিভার স্টেশন স্থাপন না হওয়ায় প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কাপ্তাই তীরবর্তী নতুন রাঙামাটি গড়ে তোলার পর ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থায় রিভার স্টেশন যোগ না হওয়ায় শুধুমাত্র গতানুতিক পদ্ধতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকল বাহিনীকে। গতকাল রোববার রাঙামাটির বাণিজ্যিক এলাকাখ্যাত রির্জাভ বাজার মসজিদ কলোনীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অন্তত: ৮৪টি বসতঘর পুড়ে ছাই গেছে। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এলাকাবাসী ও রাঙামাটিরবাসী বলছেন, যদি হ্রদঘেরা এই রাঙামাটিতে নৌ-ফায়ার স্টেশন (রিভার স্টেশন) যদি থাকতো তাহলে আরও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো।

রির্জাভ বাজার এলাকার মাসুদ পারভেজ বলেন, রাঙামাটি শহরটা লেকতীরবর্তী শহর। এখানকার পাড়া-মহল্লাগুলোর রাস্তা ছোট হওয়াতে বিভিন্ন সময়ে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকানো যায় না। আর অনেক দূর থেকে পাইপ টেনে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে যদি রিভার স্টেশন থাকতো তাহলে সহজেই আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এতে ক্ষতক্ষতির পরিমাণ আরও কমে যেতো।

তিনি বলেন, ‘রোববার রির্জাভ বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মেইন রোড থেকে পানির পাইপ নিতে হয়েছে; কেবল এলাকায় গাড়ি ঢোকাতে না পারাতে। কিন্তু পুড়ে যাওয়া পাড়াটি লেকের পাশেই।’

রিজার্ভ বাজারের মসজিদ কলোনীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি হ্রদ তীরবর্তী; নৌ-পথে রাঙামাটি ফায়ার স্টেশন থেকে এলাকাটি যেতে সময় লাগবে ৫-৭ মিনিট। কিন্তু শহর সড়কে যেতে সময় লাগে আরও বেশি। যদি হ্রদ থেকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দমকল বাহিনী কাজ করতে পারতো তবে যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে, সেটা নিয়ন্ত্রণে সময় লাগতো আধ ঘণ্টা। এতে ক্ষয়-ক্ষতি আরো কমে আসতো।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে পুরো এলাকাই ভস্মিভূত হয়ে যায়। এখানে যদি নৌ-ফায়ার সার্ভিস (রিভার স্টেশন) থাকতো তাহলে সহজেই আগুন নেভানো সম্ভব হতো। এতো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও আরও কমে যেতো। এখন আগুনে পুড়ে গায়ের কাপড়-চোপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’

রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে এই দাবি তুলেছি ধরেছি; তখন এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, রাঙামাটি শহরের মধ্যেই কয়েকটি এলাকা আছে; যেখানে সড়ক পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। ওইসব এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটলেও নৌ-পথ ফায়ার স্টেশন ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা নেই। তাই আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

রাঙামাটির সংবাদকর্মী শংকর হোড় জানান, ‘প্রতিবছর রাঙামাটির উন্নয়ন সংস্থাগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও রাঙামাটিবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি রিভার স্টেশন স্থাপনে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ শতশত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রতিবারই যেকোনো অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠলেও কর্তাÑব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে অনেক আশ্বাস দেন; কিন্তু পরবর্তীতে থেমে যান।’ এই বিষয়ে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দিদারুল আলম বলেছেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে বার বার জেলা পরিষদের মিটিংয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থান দিতে না পারায় আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনো উদ্যোগ নিতে পারছি না। রিভার স্টেশন স্থাপন করা হলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সময় কম লাগতো, আর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণও কমে আসতো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে করোনায় আরও এক নারীর মৃত্যু

রাঙামাটি শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাতে শহরের চম্পকনগর আইসোলেশন …

Leave a Reply