নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধক

অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধক

Untitled-1 পার্বত্য চুক্তিকে পাহাড়ীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের দলিল হিসেবে ভাবলেও পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালীদের একটি বড় অংশই এই চুক্তিকে নিজেদের ‘অধিকার হারানোর দলিল’ মনে করেন। তারা শুরুতে চুক্তির সরাসরি বিরোধীতা করে বাতিলের দাবী করলেও এখন চুক্তির সংবিধানের সাথে বিরোধাত্মক ধারার সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। একমাত্র আওয়ামীলীগ,সিপিবি,বাসদ ছাড়া আর প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলই মনে করে এই চুক্তি ‘বিতর্কিত’। আবার এদের প্রায় সবাই মনে করেন পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পাহাড়ের ব্যাপক অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি একটা বড় বাধা।

রাঙামাটির পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, পার্বত্য চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগনের পরিপুর্ন চিন্তা চেতনা প্রতিফলন হয়নি। ১৮ বছর পরেও আমরা তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি দেখলে বুঝতে পারি। যাদের জন্য চুক্তি এবং যারা চুক্তি করেছেন এবং যে পক্ষই চুক্তিতে থাক না কেন আমি মনে করি এ চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। এ চুক্তিতে বিশেষ করে এখানকার বাঙালীদের স্বার্থ এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা পুনরায় ভাবার প্রয়োজন আছে। মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে সে বিষয়ে পৌর মেয়র বলেন চুক্তির সাথে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয়না। আমি মনে করি যে এলাকায় যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো হওয়া উচিত। বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই যে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে শিক্ষার মানের কিভাবে উন্নতি হবে আমি যদি শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি করি। এখানে সবকিছুই অতোপ্রোত ভাবে জড়িত। এখানে কোনকিছু আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নাই।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শাহ আলম বলেন, এ চুক্তিতে অনেক ধারা আছে যা বাংলাদেশ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এ ধারাগুলো পরিবর্তন এনেই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হোক, এটা চাই আমরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমধিকার আন্দেলনের রাঙামাটি জেলা সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, ১৮ বছরে পার্বত্য অঞ্চলে কোন শান্তির সুবাতাস বয়ে আসেনি। একটি সশস্ত্র গ্রুপের সাথে এ চুক্তি করা হয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস চাঁদাবাজি করছে। এখানকার মানুষ অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রাঙামাটি জেলা সাধারন সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মো: মুছা মাতব্বর বলেন,চুক্তির ৭২ টি ধারা মধ্যে ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি ৯ টি ধারা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জেএসএস বর্তমানে যেসব কথা বলছে এগুলোর কোন ভিত্তি নাই। পাশাপাশি এ পার্বত্য এলাকায় যে অবৈধ অস্ত্র, খুন, রাহাজানি সন্ত্রাস এগুলো যদি তারা অবিলম্বে বন্ধ করে তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন আরো বেগবান হবে বলে ।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস-ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থী বিভিন্ন নামে চাঁদাবাজি করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবী করা হয়,প্রতিশ্রুত শান্তিচুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। আর ভূমি সমস্যাসহ বাকী যে সামান্য অংশ অবাস্তবায়িত রয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং বলেন, উভয়েই যে লক্ষ্য নিয়ে চুক্তি করেছি এটা হয়তো সময়ের জন্য একটু দেরি হতে পারে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনরকম কার্পন্য নেই সরকারের। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। ভূমির কাজটা অনেকটা এগিয়েছে। এটা সংসদে উঠলে আইনে পরিণত হলে ঐ বিষয়টাও সম্পন্ন হবে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় হস্তান্তরিত হয়েছে। চুক্তির প্রায়৭০% বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানান তিনি ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র লড়াইয়ের ২৪ বছর আর চুক্তি নিয়ে দোলাচলে কাটা গত ১৮ বছর পর পাহাড়ের পাহাড়ী বাঙালী সবার চাওয়া, সকল পক্ষের সাথে আলোচনার পর,সকল বিরোধ মিটিয়ে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। তাদের বিশ্বাস,সকল পক্ষকে আস্থায় নিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ণ করা সম্ভব হলেই পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত শান্তি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মা-বাবাসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

খাগড়াছড়িতে পৃথক ধর্ষণের ঘটনায় বাবা-মাসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু …

Leave a Reply