নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » অবহেলা অনাদরে প্রিয় ‘রউফ চত্বর’

অবহেলা অনাদরে প্রিয় ‘রউফ চত্বর’

Rouf-02রাঙামাটি শহরের প্রবেশমুখ খ্যাত শহরতলির মানিকছড়ির ঠিক আগেই নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত পাহাড়ঘেরা জায়গাটিতে ২০০৯ সালে নির্মাণ করা হয় ‘রউফ চত্বর’। রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ হওয়া বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর স্মরণে নির্মিত এই চত্বরে তার সুবিশাল ভাস্কর্য ‘আরক্ষী’,রাঙামাটির সন্তান তিন বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ অর্জুন চন্দ্র দে,শহীদ শুক্কুর আলী এবং শহীদ খগেন্দ্র নাথ চাকমার মার্বেল পাথরে আঁকা প্রতিকৃতি,মুক্তিযুদ্ধ আর পাহাড়ের জীবন ও প্রাকৃতিক দৃশ্যসম্বলিত টেরাকোটা,দেয়ালচিত্র, ‘ইজর’ নামে সুদৃশ্য একটি রেস্টুরেন্ট,জাহাজসদৃশ পর্যবেক্ষন টাওয়ার,পাহাড়ী কৃত্রিম ঝর্ণাসহ চমৎকার ও নয়নাভিরাম করেই নির্মাণ করা হয় এই নতুন পর্যটনকেন্দ্রটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় এই রউফ চত্বর। আকাংখা ছিলো বৈকালিক আড্ডায় শহরবাসির প্রিয় স্থান হয়ে উঠবে এটি। আশাবাদ ফলপ্রসূ হতে সময় লাগেনি। প্রতিদিন বিকেলে কিংবা ব্যস্ততার ফাঁকে শহরের মানুষ ঠিকই ছুটে যেতেন এই ‘রউফ চত্বরে’। খাবারের বৈচিত্রে আর আড্ডার মনোরম পরিবেশের কারণে চত্বরটি বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠে। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও আসতে শুরু করেন এখানে।ROuf-03

পাহাড়ঘেরা নির্জনতায় রউফ চত্বর যেনো হয়ে উঠে কারো কারো প্রিয় কফিহাউজও। কিন্তু বিধি বাম। অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় রউফ চত্বরের রেস্টুরেন্টটি। সেই সাথে রউফ চত্বরও হয়ে পড়ে অরক্ষিত। বখাটে তরুন কিংবা ছিন্নমূল মানুষের অনৈতিক কাজের আখড়ায় পরিণত হয় প্রায় পরিত্যক্ত রউফ চত্বর। বীরশ্রেষ্ঠ’র ভাস্কর্য ‘আরক্ষী’র রক্ষনাবেক্ষনে কেউ না থাকায় ভাস্কর্যের সাথে নির্মিত পতাকার অংশটি কে বা কারা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। রেস্টুরেন্ট ‘ইজর’ এর চমৎকার নামফলকটিও তছনছ। অর্ধনির্মিত পাহাড়ী ঝর্ণাটির কাজও আর শেষ হয়নি। অন্যান্য স্থাপনাগুলোর অবস্থাও বেহাল। বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত রউফ চত্বরের ফুলের গাছগুলো এখন আর একটিও অবশিষ্ট নেই।Rouf-04
সর্বশেষ রউফ চত্বরের ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়ি ছিলো তাদের একজন জানালেন,পাহাড়ী ওই এলাকাটিতে সন্ধ্যার পর রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতা ও সাপের উপদ্রবের কারণেই রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য দায়িত্বশীল কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
একটি চমৎকার উদ্যোগ আর নির্মাণ যে কত সহজে নষ্ট হতে পারে তার সবচে বড় উদাহরণ এই রউফ চত্বর। কিন্তু কেনো এই দুর্দশা চত্বরটি জানা গেলোনা ইতিউতি করেও। যেহেতু সেনাবাহিনী নির্মিত পর্যটন স্থাপনা,তাই সিভিল প্রশাসনও এনিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ।Rouf-05
অথচ এখনো সামান্য উদ্যোগ আর আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটালে রউফ চত্বর ফিরে পাবে তার সৌন্দর্য ও স্বকীয়তা। রাঙামাটিবাসির প্রত্যাশা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর স্মৃতিবিজড়িত এই রউফ চত্বর আবার মুখরিত হবে পর্যটক আর স্থানীয়দের পদচারণায়। সেই প্রত্যাশার ফানুস উড়িয়ে অপেক্ষা শহরবাসির।Rouf-08Rouf-07

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে এমএনলারমাপন্থী পিসিপি নেতা খুন

রাঙামাাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহযোগী ছাত্রসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের …

Leave a Reply