অবশেষে মানিকছড়ি গুচ্ছগ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা

IMG_5355মানিকছড়ি গুচ্ছগ্রামটি পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত। প্রায় দেড়শত ফুট নীচের নদী ও নালার পানি খাওয়া ও ব্যবহার ছিল এখানকার নিত্য চিত্র ! অবশেষে ইউপির এলজিএসপি-২ এর বরাদ্দে গভীর নলকূপে মোটর ব্যবহারে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে । ফলে শত শত পরিবারের নারীরা আনন্দে আত্মহারা ।
সরজমিনে দেখা গেছে, মানিকছড়ির সদরস্থ জিয়া নগর গুচ্ছগ্রামে আড়াইশ কার্ডধারীসহ চারশত পরিবারের বসবাস। পাহাড়ের উঁচুতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ছিল না। নদীর পানি তুলে গোসল, খাবার, রান্না-বান্না করতে হতো নারীদের। প্রায় দেড়শত ফুট উঁচু টিলায় টিউবওয়েল বসিয়ে পানি তোলা ছিল খুবই কষ্টকর। সদর ইউপি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এলজিএসপি-২ প্রকল্পের অর্থে গুচ্ছগ্রামের মধ্যস্থ মসজিদ সংলগ্ন আবু ছিদ্দিকের জায়গায় গভীর নলকূপ বসিয়ে মোটর সংযোগে পানির ব্যবস্থা করে। এতে ব্যয় হয়েছে এক লক্ষ চৌষট্টি হাজার ছয়শত টাকা। নলকূপটি দেখবালে নিয়োজিত আবু ছিদ্দিক জানান,দৈনিক দু’টাইমে প্রায় ছয় হাজার লিটার পানি তোলা হয়। এতে আশে-পাশের অর্ধশত পরিবারসহ শত শত পরিবার উপকৃত হচ্ছে। মোটর ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল ব্যবহারকারীরা বহন করবে তিনি জানান। সোমবার বিকাল ৪টায় সরজমিনে গেলে দেখা যায় শতাধিক কলস নিয়ে মহিলারা এসে জমায়েত হয়েছে পানি নিতে।
এ সময় কথা হয় শাহিদা বেগমের সাথে তিনি জানান, আগে ১৫০ ফুট গভীর থেকে পানি আনতাম, এখন গভীর নলকূপের পানি পাচ্ছি এতে গৃহীনিদের খুব উপকার হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের অপরপ্রান্তে আরেকটি বসালে ভালো হতো। প্রকল্প কমিটির আহ্বায়ক ইউপি সদস্যা শাহিনা আক্তার জানান, আমরা এ গুচ্ছগ্রামের মহিলাদের পানির কষ্ট উপলব্ধি করতে পেরেছি এবং চেয়ারম্যান উক্ত প্রকল্পে অনুমোদনে আন্তরিক হওয়ায় এ কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম এ প্রসঙ্গে বলেন,পাহাড়ের চূড়ায় গুচ্ছগ্রাম হওয়ায় মানুষ সেই ৮৩-৮৪ সাল থেকে নদীর পানিই ছিল তাদের একমাত্র উপায়। সম্প্রতি পানি স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সর্বত্র পানির জন্য হাহাকার ছিল ,তাই এ উদ্যোগ নিয়েছি। ভবিষতে এ ধরণের আরো প্রকল্প নেয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply