নীড় পাতা » ব্রেকিং » অবশেষে ডানা মেললো যে স্বপ্ন

অবশেষে ডানা মেললো যে স্বপ্ন

Uni-picপ্রতীক্ষার প্রহর শেষে যেনো আকাশে ডানা মেললো স্বপ্নের পাখীরা। গত কয়েকমাসের টানা উৎকন্ঠা,ভয় আর দ্বিধাকে জয় করে শেষাবধি চালু হলো রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাড়তি একটি ভবনে শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শ্রেণী কার্যক্রম। ব্যাপক নিরাপত্তা,শহরজুড়ে সেনাবাহিনী,বিজিবি ও পুলিশের টহল,ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি আর প্রশাসনের সর্বাত্মক সতর্কাবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।

সোমবার সকাল এগারোটায় অনুষ্ঠিত হয় ওরিন্টেশন ক্লাশ। ক্লাশ শুরুর এই মাহেনন্দ্রক্ষণে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,সেনা জোন কমান্ডার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।

এইসময় তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সকল ভয়ভীতি জয় করেই তোমরা এখানে পড়তে এসেছো। তোমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। তোমরা কোন ধরণের স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত না হয়ে পড়াশুনাতেই মনোনিবেশ করো।’

এদিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাশ শুরু হলো। এই বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৭৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রথম দিনের ক্লাশে উপস্থিত ছিলেন ৪৬ জন শিক্ষার্থী। ক্লাশে উপস্থিত হওয়া শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ছিলো স্বস্তি আর উচ্ছাসের চিহ্ন।

শিক্ষার্থী শামুসজ্জামান বাপ্পি বলেন, কত কয়েকমাস কী যে কষ্টে ছিলাম। বাড়ী ছেড়ে এসে রাঙামাটিতে মেস করে কষ্টকর জীবনযাপন করেছি আর ক্লাশ শুরুর দাবিতে নানা কর্মসূচী পালণ করেছি। আজ কী যে আনন্দ লাগছে বোঝাতে পারবোনা। আজ আমার জীবনের সবচে আনন্দের দিন।

আরেক শিক্ষার্থী রাসেল বলেন,চারদিকে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু একটুও ভয় বা খারাপ লাগছেনা। বরং ক্লাশ শুরু হওয়ায় স্বস্তি লাগছে। এখন আমাদের পড়াশুনাই প্রধান কাজ। যে সময়গুলো নষ্ট হয়েছে সেগুলোতো আর ফেরত পাবোনা। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে এখন থেকে যেনো নিয়মিত ক্লাশ ও পরীক্ষা হয়।

প্রসঙ্গত,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুসারে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজর কার্যক্রম শুরু হলে শুরু থেকেই বিরোধীতা শুরু করে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটি কোনভাবেই পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে পাহাড়ে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে দিতে রাজি নয়। এনিয়ে তার দফায় দফায় নানান কর্মসূচী পালন করে। আবার তাদের বিরোধীতা করে জাতীয় রাজনৈতিক দলের সহযোগি ছাত্র সংগঠনগুলোও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের সমর্থনে কর্মসূচী পালন করে। এমন বিরোধীতা আর সহিংতার মধ্যেই এ বছরের ১০ জানুয়ারি শুরু হয় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। ওইদিন রাঙামাটি শহরে পিসিপি কর্মীদের হামলায় মনির নামে এক যুবক নিহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ নিয়ে সৃষ্ট সংঘাত পরিণত হয় জাতিগত সংঘাতে,আহত হয় অনেকেই। আগুন দেয়া হয় বসতবাড়ি ও গাড়ীতে। তারপরও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হয় মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম। শেষাবধি জনসংহতি সমিতির তীব্র বিরোধীতাকে উপেক্ষা করেই যাত্রা শুরু হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের।

আপাতত: এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য নির্মিত ছাত্রাবাসে থাকবেন এবং স্কুলটির একটি ভবনের শ্রেণী কার্যক্রমে অংশ নিবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা।

হুমকি ক্ষুদ্ধ জনসংহতি সমিতির !
এদিকে হঠাৎই বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘প্রবল গণবিরোধিতাকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহরায় জোর করে রাঙামাটিস্থ শাহ উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে শুরু করায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা না হলে জনসংহতি সমিতি আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে বিতর্কিত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হওয়া উপলক্ষ্যে রাঙামাটি শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ প্রহরা এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস এলাকায়ও সার্বক্ষনিক অর্ধশতাধিক পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশকারি সকল যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। এবং যেকোন ধরণের নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। শহরের সর্বত্রই নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply