নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » অবশেষে ‘এসই’ বদলি,তদন্ত চলছে

অবশেষে ‘এসই’ বদলি,তদন্ত চলছে

নানা অনিয়মের কারনে আলোচিত খাগড়াছড়ি সড়ক সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী-এসই ( চলতি দায়িত্ব) কে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর সংলগ্ন ছুটি, প্রশিক্ষন ও প্রেষণজনিত সংরক্ষিত (সিভিল) পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে। এটি শাস্তিমূলক বদলি বলে জানা গেছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন ঢাকা এইচডিএম সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো: হাবিবুর রহমান। গত ৯ নভেম্বর এই আদেশ জারি করা হয়। গত ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো তিনি খাগড়াছড়িতে অবস্থান করছেন। বেক ডেইটে ফাইলেও স্বাক্ষর করছেন। এদিকে তাঁর নানা ধরনের অনিয়মের তদন্ত করতে ১ সদস্যের সদস্য কমিটি কাজ শুরু করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের একজন তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
এই কর্মকর্তা ২০১৪ সালের ১০ আগষ্ট খাগড়াছড়ি সড়ক সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম আর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। যোগদান মাসেই তিনি সরকারি গাড়ি ও তেল ব্যবহার করে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিলাস ভ্রমন করে প্রথম আলোচনায় আসেন। এ নিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর‘ ২০১৪ দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তার অনিয়ম নিয়ে আরো একটি রিপোর্ট ছাপা হয় দৈনিক কালেরকন্ঠে। এছাড়া তাঁর নানা অনিয়ম ও অসৌজন্যমূলক আচরনের কারনে প্রকৌশলী ও কর্মচারিরা অনেকটাই বিরক্ত ছিলেন। সওজের কর্মচারি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এনিয়ে অসন্তোষ ও প্রতিবাদ জানিয়ে রেজুলেশন প্রকাশ করে।
গাড়ি-তেলের বেহিসাব:
গাড়ি-তেলের হিসেবে গড়মিল রেখেই বদলি হয়ে যাচ্ছেন খাগড়াছড়ি সড়ক সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কয়েকদফায় সরকারি গাড়ি (টয়োটা প্রডো জীপ নং ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-১৬৪৩) নিয়ে তিনি ঢাকায় যান। গাড়ি ফিসনেস করানো, মিটিং এ অংশ গ্রহনসহ নানা কারণ দেখিয়ে তিনি গাড়ি নিয়ে অনেকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে যান। ২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী এবং ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ পৃথক দুটি সার্কুলার ও অফিস আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি পদস্থ সরকারী কর্মকর্তাকে নিজ অফিসে মুভমেন্ট রেজিষ্টার ও মাসিক রিপোর্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে জমা দেয়ার নিয়ম তিনি কখনো মানেননি। এমনকি সরকারি গাড়ী নিয়ে জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গেলেও তা লগে উঠেনি অথবা কখনো লগ বইতে স্বাক্ষর দেননি। গত সোয়া বছরে তার গাড়িতে কত তেল ব্যবহার হয়েছে, শেষতক তারও হিসেব নেই।
তার গাড়ির সাবেক চালক আরিফুজ্জামান নবাব বলেন, ‘স্যারকে নিয়ে দুইবার ঢাকায় গেছি। তা লগে তোলা হয়নি।’ তবে, আরেক চালক দীন মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ‘যোগদানের পরপরই স্যারকে (এসই) নিয়ে কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রামে গিয়েছি। আমি লগে তুললেও স্যার তাতে স্বাক্ষর দেননি।’ বর্তমানে এসই এর গাড়ির চালক স্বপন বড়–য়া জানান, ‘আগের চালকদের অফিস অর্ডার না থাকলেও আমি অফিস অর্ডারে গাড়ি চালাচ্ছি। লগও মেইনটেইন করছি। তবে, স্যারের স্বাক্ষর নেই।’ শুধু তাই নয়; কোন চালকই তার গাড়ি চালাতে স্বস্থিবোধ করতেন না। সোয়া ১ বছরে বারবার বদল করে দীন মোহাম্মদ, জহির, নবাব ও স্বপন; ৪ জন চালক গাড়ি চালিয়েছেন।
এদিকে যোগদানের পর হতে সড়ক বিভাগের ডাকবাংলোতেই (আইবি) অবস্থান করেন এবং সম্পূর্ন এসি বাংলোতে দৈনিক মাত্র ৫০ হারে টাকা জমা দিয়েছেন। যদিও ১৯৯৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের বাসা বরাদ্দ কমিটির সভায় এই ডাকবাংলোটিকে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীর বাসভবন হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছিল। সে হিসেবে তার বেতন স্কেল (৩০ হাজার ৭৫০ টাকা) অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ কর্তনের নিয়ম রয়েছে।
ফেয়ার ওয়েল দিচ্ছেনা সওজ:
ইতিপূর্বে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীর দূর্ব্যবহারে অতিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা তাকে বিদায় বেলায় ‘ফেয়ার ওয়েল’ দিচ্ছেন না। কয়েক দফায় সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বিশেষত চালক, শ্রমিক-কর্মচারিরা রাজি হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোছলে উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি একান্তই সড়ক বিভাগের।’

অনিয়মের তদন্ত চলছে:
খাগড়াছড়ি সড়ক সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী-এসই (চলতি দায়িত্ব) এ.এস.এম ফারুক হোসেন এর বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়। মন্ত্রনালয় গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের একজন তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। এরই মধ্যে ‘এসই’ বিষয়ে উত্থিত নানা অনিয়মের তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা খাগড়াছড়ি সওজের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারিদের সাথে কথা বলেছেন। তবে খাগড়াছড়ি সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এস. এম ফারুক হোসেন এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে উঠা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেয়নি বলে বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় দুজন নিহত

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় সুভাষ তনচংগ্যা (৪৫) ও ধরনজয় তনচংগ্যা (৩৬) নামে দুইজন …

Leave a Reply