নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » অপহরণের ৩ দিনেও উদ্ধার হয়নি দুই বিপণনকর্মী

রামগড়

অপহরণের ৩ দিনেও উদ্ধার হয়নি দুই বিপণনকর্মী

অপহরণের ৩দিন পরও উদ্ধার হয়নি খাগড়াছড়ির রামগড়ের যৌথখামার এলাকায় গত রবিবার অস্ত্রের মুখে অপহৃত হওয়া বেসরকারি কোম্পানি জুয়েল ট্রেডার্সের বিপণন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম (৩৫) ও কর্মচারী রাজুমিয়া (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী হতে খাগড়াছড়িগামী পিকাপ গাড়ি (ফেনী-ন১১-১৪১) জুয়েল ট্রেডার্স এর প্লাস্টিকের পণ্য নিয়ে রামগড়ের যৌথখামার নামকস্থানে পৌঁছালে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের ৫জনের একটি দল ২টি মোটর সাইকেলে করে এসে পিলাকঘাট এলাকার পোস্ট কমান্ডারের নেতৃত্বে এ অপহরণের ঘটনা ঘটায়। অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা গাড়িতে অবস্থানরত সবাইকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরে সন্ত্রাসীরা গাড়ির চালক মিজানুর রহমানকে ছেড়ে দিয়ে বিপণন কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম ও মিস্ত্রি রাজুমিয়াকে অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেলে বসিয়ে বৌদ্ধপাড়ার দিকে নিয়ে যায়। অপহৃত মো.মনজুরুল আলম চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার সাইদুল হকের ছেলে এবং মিস্ত্রি রাজুমিয়া নোয়াখালী সুধারাম থানার বাসিন্দা। সন্ত্রাসীরা গাড়ির চাবি রেখে দিলেও পুলিশ গিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করে রামগড় থানায় নিয়ে আসে।

জুয়েল ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী ফেনী মাস্টারপাড়ার ধর্মপুরের বাসিন্দা মেহেদী হাসান জুয়েল জানান, কয়েক মাস পূর্বে ইউপিডিএফে (প্রসীতখীসা) গ্রুপ তার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তখন তিনি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এককালীন তাদের ২৩হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকি টাকা তার কাছে চাওয়া হয়নি তাদের পক্ষ থেকে। গাড়ির চালক মিজানুর রহমান থেকে অপহরণের খবর শুনে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশকে অবহিত করার কারণে অপহরণকারীরা মোবাইলফোনে ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদার টাকাও লাগবে না আর তার কর্মচারীদেরও ছাড়বে না বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। সোমবার পর্যন্ত অপহরণকারীদের সাথে তার ফোনে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে তারসাথে আর কোন ধরনের যোগাযোগ করেনি অপহরণকারীরা। প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে ইউপিডিএফের সজল নামের একব্যক্তি তারসাথে যোগাযোগ করে কর্মচারীদের ছেড়ে দিয়েছে বলে প্রশাসনকে মিথ্যে তথ্য দিচ্ছে। তিনি তাদের জীবন নিয়ে শংকায় আছেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, অপহৃত মোহাম্মদ মনজুরুল আলমের মাতা অপহরণের খবরশুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি তাদের মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গত ৩দিনেও অপহৃতদের উদ্ধার করতে না পারার বিষয়ে উদ্ধেগ জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলকাছ আল মামুন ভূইয়া অপহৃতদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এবং ঘটনার জন্য পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে দায়ী করেন।

অপহৃতদের উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামসুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী গাড়িরচালক মিজানুর রহমান সোমবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তিনি আরো জানান, অপহরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে অবস্থান করে উদ্ধারের তৎপরতা চালালেও অপহৃতদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপ জড়িত বলে তিনি জানান। অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ এখনো জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply