নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » অপর্ণার জানা-অজানা

অপর্ণার জানা-অজানা

দেখতে দেখতে তিনটি চলচ্চিত্রে কাজ করে ফেললেন রাঙামাটির মেয়ে লাক্স তারকা অপর্ণা। ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’-এর পর মুক্তি পেয়েছে ‘মৃত্তিকা মায়া’। টিভি পর্দার একক, ধারাবাহিকেও নিয়মিত তিনি।

মাটির প্রেমে পড়েছিলেন অপর্ণা। জড়িয়েছিলেন মৃত্তিকা মায়ায়। ‘মৃত্তিকা মায়া’ একটি চলচ্চিত্র, মুক্তি পেয়েছে এ বছরের সেপ্টেম্বরে। অপর্ণা এতে অভিনয় করেছেন। জানতে চাওয়া হয়েছিল ‘মৃত্তিকা মায়া’র পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ের অবস্থার কথা। তিনি বললেন, ‘গল্প, নির্মাণ, অভিনয় সব কিছু মিলিয়ে ছবিটি নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের পুরোটা মিলে না গেলেও রেসপন্স যা পেয়েছি তা অনেক। ছবিটিতে অভিনয় করে আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট।’Aparna-pic-011

আলোচনার শুরু হলো একটি পুরনো খবর দিয়ে। তবে খবর আরো একটা আছে। অপর্ণার তৃতীয় ছবি ‘রেইনকোট’র শুটিং, ডাবিং শেষ। চলছে পোস্ট প্রডাকশনের কাজ। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রটির পরিচালক অঞ্জন আইচ। আগের তুলনায় এবার অপর্ণার প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে। তিনি আশা করছেন, ছবিটি মুক্তির পর অপর্ণার ক্যারিয়ারের হিসাব-নিকাশ বদলে যাবে অনেকটাই। বড় পর্দায় নতুন আর কোনো খবর আছে কি তাঁর। উত্তর এক কথায়, ‘আপাতত নেই’। কারণ তিনি গল্পের ভক্ত। ভালো গল্পের, ভালো চরিত্রের সঙ্গী হওয়ার সুযোগ না থাকলে ও পথে পা বাড়ানোর ইচ্ছা নেই অপর্ণার।

হিসাব অবশ্য বদলে গেছে এই কয়েক বছরে। ইংরেজিতে গ্র্যাজুয়েশন করে করপোরেট চাকরির স্বপ্ন দেখা মেয়েটি এখন ফুল টাইম অভিনয় করছেন। প্রিয়ভূমি চট্টগ্রামের আলো-হাওয়া ছেড়ে হয়েছেন ঢাকার বাসিন্দা। ব্যস্ততা বাড়ছে দিনে দিনে, কাজের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রয়োগ করার মতো অবস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। মাঝখান থেকে শুধু দূরত্ব বেড়েছে পরিবারের সঙ্গে। বাবা-মা-বোনের সঙ্গে। অপর্ণার পরিবারের সবাই থাকেন চট্টগ্রামে। মাঝেমধ্যে ঢাকায় এসেও ঢুঁ দিয়ে যান। কিন্তু এখানে মন টেকে না তাঁদের। মা-বাবা আর ছোট বোনটিকে না দেখে বেশিদিন থাকা যায় না। অপর্ণা তাই প্রায়ই ছুটে যান চট্টগ্রামে। শিডিউল ওলট পালট করতে হয়, অনেক কাজও ছাড়তে হয় মাঝেমধ্যে। কিন্তু চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখার পর শরীর, মনে তৃপ্তির যে হাওয়াটা লাগে; সেটার মূল্য অনেক। অপর্ণা মনেপ্রাণে চান পরিবারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কমাতে। মাঝেমধ্যে তাই উড়াল দেন দেশ-বিদেশ। ওদের সঙ্গে নিয়ে। বললেন, ‘ওরা খুশি হয়। তাতে আমার তৃপ্তি বাড়ে। কাজ করার এনার্জি পাই।’

প্রতিদিন উত্তরার বিভিন্ন শুটিং হাউস, গাজীপুর, পুবাইলে, কখনো আউটডোরে দিন গড়িয়ে রাত নেমে আসে। অপর্ণা একেকটি চরিত্রের গভীরে হারিয়ে যান। বিস্তর তফাত নাটকের অপর্ণা আর ব্যক্তি অপর্ণার মধ্যে। ব্যক্তি অপর্ণা স্বল্পভাষী। প্রসঙ্গের সূত্র ধরে বেশিক্ষণ টানতে পারেন না, থমকে যান মাঝপথে। এরপরের কথা কী হতে পারে- খেই হারিয়ে যায় প্রায়ই। চুপচাপ, নিরিবিলি, ঝঞ্ঝাট মুক্ত থাকতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। থাকতে চান নিজের ভেতর নিজের মতো করে। থাকতে কি তিনি পেরেছেন? আবারও অপর্ণার স্বল্প কথার উত্তর, ‘অবশ্যই’। এখন নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য দিতে পারছেন, গল্প চরিত্র অপছন্দ হলে সহজেই ‘না’ বলে দিতে পারছেন- এটুকুই বা কয়জন পারে!

অপর্ণার বাবাও ছিলেন অভিনয়ের মানুষ। মঞ্চে কাজ করতেন। বাবার উৎসাহে তিনিও হয়তো বা দু-একবার অভিনয় করার চেষ্টা করেছেন বালিকাবেলায়। কিন্তু সেই অভিনয়ই যে তাঁর সবটুকু হয়ে উঠবে, সে রকম স্বপ্ন থাকলেও সম্ভাবনা ছিল না। একপর্যায়ে তাঁর স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর সুযোগ পাশাপাশি চলতে শুরু করল, জেগে উঠলেন তিনিও। প্লাটফর্ম পেলেন, আর পরিবারের উৎসাহ তো মজুদ ছিল আগে থেকেই। সামনে চলার সব উপাদানকে সঙ্গে নিয়ে অপর্ণা তাই নিজের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছেন।

( লেখাটি  দৈনিক কালের কন্ঠে ১৯ ডিসেম্বর’২০১৩ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে,কালের কন্ঠ’র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাসহ আমরা লেখাটি আমাদের ‘অন্য আলো’ বিভাগে প্রকাশ করলাম)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি’র প্রচারপত্র বিতরণ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূক প্রচারণা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার …

Leave a Reply

%d bloggers like this: