নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » অপরূপা ‘মুপ্পোছড়া ঝরণা’ (পর্ব-২)

অপরূপা ‘মুপ্পোছড়া ঝরণা’ (পর্ব-২)

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আরও একটি অপরূপ ঝরণা হচ্ছে ‘মুপ্পোছড়া ঝরণা’। আমরা ১১ জনের যে টীম বিলাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে বাঙালকাটা আদামের (পাহাড়ি গ্রাম) ঘাটে বোট থেকে নেমে স্থানীয় গাইড সুমন চাকমার সহযোগিতায় পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর ছড়া দিয়ে ‘নকাটাছড়া’ ঝরণায় গিয়েছিলাম। সে নকাটাছড়া ঝরণা থেকে বেরিয়ে পড়লাম ‘মুপ্পোছড়া ঝরণার’ উদ্দেশ্যে।

নকাটাছড়া ঝরণার পাশেই উঁচু পাহাড়ের পথ বেয়ে উপরে উঠে আবারও পেলাম একটি ছড়ার সন্ধান। সে ছড়াটি ঠিক নকাটা ঝরণার উপরের অংশ থেকে আবারও শুরু হয়ে চলে গেছে মুপ্পোছড়া ঝরণার দিকে। যাওয়ার পথে প্রথমে দেখা মিললো বেশ কয়েকজন পাহাড়ি ছেলের। তারা ছড়ার জলে কখনো গাঁ ভাসিয়ে দিচ্ছে, আবার কখনো একে অন্যকে জল ছুড়ে মেতে উঠেছে খেলায়।

এই দুষ্টু পালের দুষ্টমি দেখে ছড়ার মধ্যে দিয়ে এগুতে থাকি আমরা। আবারও সেই ছোট-বড় নুঁড়ি পাথর আর পাহাড়ি পথে মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হয় আমাদেরকে। এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে সেই আকাশচুম্বী উঁচুউঁচু পাহাড় আর পাহাড়কে ঢেকে রাখা অজ¯্র সবুজ গাছপালা।

পাহাড় আর তার গাছপালা দেখতে দেখতে এগিয়ে যেতেই শুনা যায় পাহাড়ের কত শত পাখির সুমধুর ডাক, কখনো আবার কানে ভেসে আসে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকও। এক দিকে নীরবতা মানুষের কোনো কোলাহল নেই, অন্যদিকে পাহাড়ি শতশত পাখির ডাক আর ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া জলের প্রবাহমান শব্দ মনোমুগ্ধকর এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেয়। মুহূর্ত্বেই যেনো পাহাড়বাসী হওয়ার ইচ্ছে জাগিয়ে তুলে মনকে।

ছড়ার কিছু অংশে পানি বেশি থাকায় নামতে হয় হাঁটু সমান পানিতে, আবার কোনো কোনো স্থানে বড় বড় নুঁড়ি পাথরের উপর দিয়ে সর্তক থেকে পাঁ ফেলে এগিয়ে যেতে হয় মূল ঝরণার দিকে। এভাবে এগুতে এগুতে দেখা মিলে আবারও একটি পাহাড়ি রাস্তা। সে রাস্তাটা যথেষ্ট পিচ্ছিল বলে সর্তক হয়ে এগিয়ে যেতে হয়। পাহাড়টি বেয়ে খানিকটা উপরে উঠলেই দেখা মিলে প্রায় পাঁচশ থেকে সাড়ে পাঁচশ ফুট উচু ‘মুপ্পোছড়া’ ঝরণার।

বিশাল এক ঝরণা দেখে মুহূর্ত্বে ভাষা হারিয়ে ফেলবে যে কোনো পর্যটক তার রূপ বর্ণনা করার জন্য। পাহাড়ে পাথরের সৃষ্টি আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে নেমে আসা অজস্র জলধারা দেখে পর্যটকের মনোমুগ্ধ না হয়ে কোথাও যাবে না। প্রায় পাঁচশ থেকে সাড়ে পাঁচশ ফুট উপর থেকে ঝরে পড়া এ জল দেখে কাব্য রচনাও করতে বসে যেতে পারে অনেক পর্যটক। ঝরণার জলে গাঁ ভাসিয়ে দিয়ে কিছুটা নিজেকে শুদ্ধ করে নিতে পারেন পর্যটকরা। তবে সর্তেক থাকতে হয় ঝরণার জল ঝরে পড়া পাথর গুলো বেশ পিচ্ছিল।

এভাবে এ ‘মুপ্পোছড়া’ ঝরণা দেখে আবারও আমরা পাহাড়ি পথে ও ছড়া বেয়ে নেমে এলাম বাঙালকাটা আদামে। সেখানে ঘাটের পাশে রয়েছে পাহাড়িদের দোকান। নেমে আসতে আসতে ক্লান্ত শরীর যেনো আর পাঁ ফেলতে চাইছেনা। তখনই এ আদামের দোকানে আদা, তেজপাতা দিয়ে তৈরি করা এক কাপ রঙ চা (লালচা) খেয়ে শরীরকে একটু তরতাজা করে নিলাম। সাথে চললো পাহাড়িদের হুক্কা।

নকাটাছড়া ও মুপ্পোছড়া ঝরণা দেখা শেষে বাঙালকাটা ঘাট থেকে আবারও ভাড়া করা সে বোটটি নিয়ে আসতে থাকলাম বিলাইছড়ি উপজেলা সদরের দিকে। আসতে আসতে সন্ধ্যা নেমে এলো। কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার কারণে এ সময়টিতে আকাশে দেখা মিললো গৌধুলীর। একদিকে হ্রদের স্বচ্ছ জল, দূর পাহাড়ের ছায়া আর আকাশের গৌধুলী মেলা বোটের ছাদে বসে দেখতে দেখতে চলে এলাম বিলাইছড়ি সদরের ঘাটে।

ঢাকা থেকে মুপ্পোছড়া ঝরণায় বেড়াতে আসা মাহিম আজমির ফারাবি বলেন, ‘আমরা তিন বন্ধু বিলাইছড়ির ঝরণা দেখতে এসেছি। এখানে মুপ্পোছড়ি ঝরণাটি অনেক বড়। দেখতেও অনেক সুন্দর। ঝারণায় যাওয়া রাস্তটি এবং ঝরণার মধ্য ভাগে উঠার যে রাস্তা উভয় মিলে এটি ভালো একটি অ্যাডভ্যাঞ্চার ছিলো।’

চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে যাওয়া নুহ নাজিউল্লাহ বলেন, ‘বিলাইছড়ির প্রতিটি ঝরণায় সুন্দর। কেউ কাউকে ইঞ্চি পরিমাণ সৌন্দর্য্যরে দিকে হার মানাতে রাজি নয়। অনেক বেশি ভালো লাগলো পাহাড়ের সকল এলাকা। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা জন্য প্রশাসনের সেখানে আরও টহল বাড়ানো প্রয়োজন এবং পর্যটনমুখী করার জন্য আরও অনেক ভালো ভালো উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।’

লেখক: তরুণ সংবাদকর্মী

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply