নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » অন্তর্বর্তী জেলা পরিষদের আকার বৃদ্ধি : পাহাড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

অন্তর্বর্তী জেলা পরিষদের আকার বৃদ্ধি : পাহাড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

RHDC-Pic-01তিন পার্বত্য জেলায় অন্তবর্তীকালীন জেলা পরিষদগুলোর পরিধি বাড়িয়ে তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাঙামাটিতে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তর্বর্তী পরিষদের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাঙামাটির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিভিন্ন দল একে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ অন্তবর্তী পরিষদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দুর্নীতিরও বিস্তার হবে বলে উল্লেখ করেন।

তাঁরা বলেন, পাঁচজনে যে কাজ হবে এগারোতেও সে কাজই হবে। পরিষদকে পরিপূর্ণ গতিশীল করতে এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেটাই কাম্য। পক্ষান্তরে নির্বাচন না দিয়ে পরিষদ বিস্তার করে কাজের ক্ষেত্রেও কোনও ফল হবে না বলে মনে করেন অনেকে। প্রসঙ্গত, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী এখন থেকে অন্তর্বর্তী পরিষদে চেয়ারম্যানসহ মোট ১১ জন সদস্য থাকবেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সংখ্যা পরিবর্তনের বিষয়টি আসলে কোনো কাজে আসবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী পরিষদ ৫ থেকে বাড়িয়ে ১১ করলো। তা একদিক থেকে ঠিক মনে হলেও নির্বাচিত পরিষদ ছাড়া জেলা পরিষদগুলো কার্যকর করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া পার্বত্যাঞ্চলে কোনো আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলাপ-আলোচনা করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে সরকার আলোচনা করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

সাবেক স্থানীয় সরকার পরিষদের (বর্তমান জেলা পরিষদ) নির্বাচিত চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান বলেন, ১১ কিংবা ১২ তা বড় কথা নয়। নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তী পরিষদ বাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। পরিষদের সংখ্যা বাড়ালেও এখানে যোগ্যতার মাপকাঠি হবে দলীয় পরিচয়। নির্বাচিত পরিষদ না হওয়াতে জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে জবাবদিহিতা থাকার কথা তা থাকবে না। তাই মনোনীত পরিষদ গঠন করে শুধুমাত্র সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সুনীল কান্তি দে বলেন, নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন থাকায় আপাতত নির্বাচন করতে না পারলেও অন্তর্বর্তী পরিষদ বিস্তারে তা কতটুকু কাজে আসবে তা নির্ভর করছে নতুন নেতৃত্বের কার্যক্রমের ওপর। সঠিক অর্থে মনোনয়ন হলে এবং তাদের সমাজে গ্রহণযোগ্যতা থাকলে তবেই পরিষদ বিস্তারের বিষয়টি কাজে আসবে। তবে জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিষদের নির্বাচনের বিকল্প নেই।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, আগে ৫জন লোক কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছে, এখন ১১জন লোক কোটি টাকার মালিক হবে। তাই এনিয়ে আমার কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন হলে তবেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন বলে জানান তিনি ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর পরিষদ বিস্তারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সকল জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে পরিষদ বিস্তারের প্রয়োজন ছিলো। যেহেতু বর্তমানে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না তাই পরিষদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি পরিষদ পুনর্গঠনে যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিদের মনোনীত করার আহ্বান জানান।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য উষাতন তালুকদার বলেন, জেলার পরিষদ পুনর্গঠনের আগে আমার সাধে কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে কোন আলোচনাই করা হয়নি। বিষয়টি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply