নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘অনমনীয়’ হাবিবের চোখের জলে বিদায়

‘অনমনীয়’ হাবিবের চোখের জলে বিদায়

habib2রাঙামাটির রাজনীতির ‘রহস্যপুরুষ’ তিনি। বরাবরই ছিলেন পাদপ্রদীপের আলোয়। ১৯৯১ সালে দীপংকর তালুকদারকে ভারত থেকে এসে সুদীপ্তা দেওয়ানদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে শেষাবধি দলীয় প্রার্থী মনোনীত করতে যে সামান্য কজন আওয়ামীলীগ নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদেরই একজন হাবিব। এরপর দীপংকরের ৯১ এবং ৯৬ এর নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীণ আওয়ামীলীগের পৌর কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হলে সেই সময়ও চুক্তির পক্ষের আওয়ামীলীগের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এরই ফল হিসেবে ১৯৯৯ সালের পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান হাবিব এবং প্রত্যাশিতভাবেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েই শহরের বস্তি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেন তিনি। এবং শহরের সাধারন মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। তবুও দ্বিতীয়বার মনোনয়ন পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তাকে। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক চাপ আর সেই সময় চতুর্থ শ্রেণী ক্লাব কাম কমিউনিটি সেন্টার ঘেরাও করে রাখে তার সমর্থকরা। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই মনোনয়ন দিতে হয় তাকে এবং তিনি নির্বাচিতও হন তিনি। দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকেন তিনি। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে আর তিনি দলের মনোনয়ন চাননি,দলও দেয়নি। দল মনোনয়ন দেন আব্দুল মতিনকে। মতিনের পক্ষেও মাঠে নামেননি হাবিব। সেই নির্বাচনে পরাজিত হয় আওয়ামীলীগ। এরপর এবার আবার দলের মনোনয়ন চান হাবিব। দলের অন্য চার প্রার্থীও মনোনয়ন চান। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে সবশেষে দলের মনোনয়ন ছিনিয়ে আনেন আকবর হোসেন চৌধুরী। কিন্তু এটা মেনে নিতে পারেননি হাবিব। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। জমে উঠে খেলা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই হাবিব ঘোষণা দেন কোন চাপের কাছেই নতিস্বীকার করবেন না তিনি এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসেনা।

মাঠে নেমে যান হাবিব। শুরু করেন ব্যাপক প্রচারণা। সাড়াও পান ব্যাপক। তার পক্ষে মাঠে নামেন আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মীও। তার প্রচারে ব্যাপক সাড়া দেখে চিন্তিত হয়ে উঠে আওয়ামীলীগও। বিভিন্নস্থানে প্রচারকাজে বাধা দেয়া,নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। সরকারি দলের কর্মীদের বাধার মুখে একপ্রকার কোনঠাসা হয়ে পড়েন হাবিব,ঘরে বসেই নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে অনেকটা বাধ্য হন। এর প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন হাবিব। সরাসরি বলেন,কোনভাবেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

এরই মধ্যে সোমবার হাবিবের পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের একের পর এক বহিষ্কার শুরু করে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনসমূহ। বিপাকে পড়ে যান হাবিব।habib-03

মঙ্গলবার সকালে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মুছা মাতব্বর সাংবাদিকদের ফোন করে বিকাল চারটায় আওয়ামীলীগ অফিসে হাবিবুর রহমানের সাংবাদিক সম্মেলনের তথ্য জানান। তখনই ‘নতুন কিছু’র আঁচ পাওয়া যাচ্ছিলো। এরই মধ্যে শহরে ছড়িয়ে পড়ে নির্বাচন থেকে হাবিবের সড়ে যাওয়ার তথ্য। আর বিকাল সোয়া চারটায় আওয়ামীলীগ অফিসের সেই সাংবাদিক সম্মেলনেই মেলে সব প্রশ্নের উত্তর।

তবুও সব প্রশ্নের উত্তর কি আদৌ মিলছে ? সবার একই প্রশ্ন ‘হঠাৎ এমন কি হয়েছে যে, ‘অনমনীয় হাবিব’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন!’ সে প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারোই। রাজনীতির অসংখ্য উত্তর না মেলা প্রশ্নের মতো এই প্রশ্নটিও হয়তো ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাওয়া ভেসে বেড়াবে। কিন্তু উত্তর আদৌ শেষাবধি মিলবে কিনা তাই এখন দেখার বিষয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply