নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » অকেজো তাঁতযন্ত্র, ভেঙে পড়েছে ঘরের সিলিং

অকেজো তাঁতযন্ত্র, ভেঙে পড়েছে ঘরের সিলিং

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় তাঁত প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্রের ১২টি তাঁতযন্ত্রই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের এই প্রতিষ্ঠানটি এক বছর ধরেই বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাও নেই। জরাজীর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চারদিকে নোংরা আবর্জনা। দুর্গন্ধে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। ভেঙে পড়েছে ঘরের সিলিংও।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরে টিনের ছাউনি দেওয়া চার কক্ষবিশিষ্ট তাঁত প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্রের ভবনটি সুনসান। নেই প্রশিক্ষণার্থীদের আনাগোনা। কয়েকজন কর্মচারী কেবল অফিস কক্ষে অলস বসে আছেন। পাকা টিনশেড ঘরের চারটি কক্ষের একটি তাঁত প্রশিক্ষণ কক্ষ, একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কক্ষ, একটি অফিস কক্ষ ও আরেকটি স্টোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সব কক্ষই জরাজীর্ণ। তাঁত প্রশিক্ষণ কক্ষে ঢুকতেই দেখা গেল, তাঁতযন্ত্রগুলো নষ্ট পড়ে আছে। সুতা কাটার চরকাগুলো গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতে। ঘরের বাঁশ ও কাঠের সিলিং ভেঙে তাঁতযন্ত্রের ওপর পড়েছে। বৃষ্টির পানি পড়ে ঘরের ভেতর শেওলা জমেছে। অন্ধকারে ঘরটিতে সব মিলিয়ে ভূতুড়ে পরিবেশ।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী তাঁত প্রশিক্ষক সুজিতা চাকমা বলেন, কেন্দ্রে ১৪টি তাঁতযন্ত্র রয়েছে। তার মধ্যে ১২টি তাঁতযন্ত্র একবারেই অকেজো। দুটি তাঁতযন্ত্র কোনোরকম চলে। এক বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষণ হয় না।

সহকারী তাঁত প্রশিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, ‘তাঁতযন্ত্র যে কক্ষে আছে সেখানে আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। বর্তমানে ঘরটিতে বসা যায় না। ঘরের সিলিং ভেঙে পড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের পর আর কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি। তাঁতযন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এগুলো মেরামত না করলে তাঁতযন্ত্রের কাঠও পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

কার্পেন্টার সহকারী ওসমান গণি বলেন, ‘কেন্দ্রে বর্তমানে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা নেই। আমি কার্পেন্টার সহকারী আর নৈশপ্রহরী হিসেবে কেন্দ্রে থাকি। বর্তমানে সহকারী তাঁত প্রশিক্ষক দুজন, সেলাই সাহায্যকারী দুজন ও আমিসহ মোট পাঁচজন কর্মরত আছি। দুই বছর ধরে কার্পেন্টারের কোনো প্রশিক্ষণ হয় না। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কক্ষগুলো জরাজীর্ণ। এমন জরাজীর্ণ কার্যালয়ে আমরা কোনোরকম বসে সময় পার করছি।’ পাবলাখালী এলাকার বসিন্দা সন্তোষী দেওয়ান বলেন, ‘সরকারি একটি তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বছরের পর বছর এভাবে পড়ে থাকাটা দুঃখজনক। তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু থাকলে আমরা বেকার নারীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারতাম।’

কবাখালী মুসলিমপাড়া গ্রামের রাবেয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা অনেক মেয়ে পড়াশোনা করে বেকার বসে আছি। কুটির শিল্পটি যদি চালু থাকত তাহলে আমরা প্রশিক্ষণ নিতে পারতাম। ভবিষ্যতে সে প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে কিছু আয় করতে পারতাম। তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অবিলম্বে চালু করা প্রয়োজন।’

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘দীঘিনালা তাঁত প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্রের দুরবস্থার কথা আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কেউ আমাকে জানায়নি। কেন্দ্রের কোনো কর্মকর্তা পরিষদের সভায়ও আসেননি। এভাবে একটি সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অকেজো হয়ে পড়ে থাকতে পারে না। আমি যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে পদক্ষেপ নেব। মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে সভার কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে পাঠাব।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সংরক্ষণ-বিকাশে কাজ করছে সরকার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম খালিদ বলেছেন, ‘পাহাড়ের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে কাজ করছে সরকার। …

Leave a Reply